ওয়াহীর জ্ঞান
>>> ইলম, আলেম শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ <<<
(ইলম) عِلْم শব্দটি (ع ل م) ধাতু থেকে এসেছে। শব্দটি মাদ্বি (অতীত কাল) এর ছিগা হল عَلِمَ (আলিমা) এবং মুদ্বারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল) এর ছিগা হল يَعْلَمُ (ইয়া‘লামু) অর্থ জানা, জ্ঞাত হওয়া, অবগত হওয়া, অবহিত হওয়া, ভালভাবে জানা। এর Verbal Noun عِلْم (ইলম) যার অর্থ জ্ঞান, তথ্য, বিদ্যা, বিজ্ঞান, শাস্ত্র, তত্ত্ব। এর বহুবচন হচ্ছে- عُلُوم (উলুম)। এর active participle عَالِم (আলেম) যার অর্থ জ্ঞানী, বিদ্বান, পন্ডিত, শিক্ষিত, বিজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক। এর passive participle مَعْلُوم (মা‘লুম) অর্থ জ্ঞাত, পরিচিত, সুবিদিত, জ্ঞাত বিষয়, নির্দিষ্ট বিষয়। এর nominal عَلِيم (আলীম) যার অর্থ জ্ঞানী, পন্ডিত, বিজ্ঞ। এর noun أَعْلَٰم (আ‘লাম) যার অর্থ অধিকতর জ্ঞানী, অধিকতর জ্ঞানের অধিকারী, অধিক অবগত, সর্বাধিক অবগত।
এর form II মাদ্বি (অতীত কাল) এর ছিগা হল عَلَّمَ (আল্লামা) এবং form II মুদ্বারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল) এর ছিগা হল يُعَلَّمُ (ইউ‘আল্লেমু) যার অর্থ শেখানো, শিক্ষা দেওয়া, জানানো, অবগত করা, অবহিত করা। form II Verval Noun تَعْلِيْم (তা‘লিম) যার অর্থ শিক্ষা, উপদেশ, নির্দেশ, শিক্ষাদান, শিক্ষকতা, অধ্যাপনা। form II active participle مُعَلَّم (মুয়াল্লেম) অর্থ শিক্ষক, শিক্ষাদানকারী। এর form II passive participle مُعَلَّم (মুয়াল্লাম) শিক্ষাপ্রাপ্ত, শিখানো।
>>> জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহ ওয়াহী নাযিল করেছেন <<<
لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلائِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا
কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি তোমার নিকট যা নাযিল করেছেন তা তাঁর জ্ঞানের ভিত্তিতেই নাযিল করেছেন এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষ্য দিচ্ছে আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আন-নিসা, ৪/১৬৬
فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلَهَ إِلا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই তা নাযিল করা হয়েছে আর তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই, তাহলে তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবে কি? হুদ, ১১/১৪
>>> ওয়াহীর জ্ঞান সঠিক পথে পরিচালিত করে <<<
وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আর অবশ্যই আমি তাদের নিকট এমন এক কিতাব এনে দিয়েছি যা পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বিবৃত, তা বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথ নির্দেশ ও রহমতস্বরূপ। আল-আ‘রাফ, ৭/৫২
وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
আর যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানে যে, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সত্য এবং তা মহাপরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে পথ নির্দেশ করে। সাবা, ৩৪/৬
وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
যাতে, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা জানতে পারে, এটা আপনার রবের পক্ষ থেকে (প্রেরিত) সত্য, অতঃপর তারা যেন এতে বিশ্বাসী হয় এবং তাদের অন্তরসমূহ যেন এর প্রতি অনুগত হয় আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল-হাজ্জ, ২২/৫৪
>>> কুরআন জ্ঞানী লোকদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন <<<
بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلا الظَّالِمُونَ
বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি (কুরআন) সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর যালিমরা ছাড়া অন্য কেউ আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না। আন-কাবুত, ২৯/৪৯
كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
এটা এক কিতাব আরবী কোরআনরূপে তার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, জ্ঞানী লোকদের জন্য। ফুসসিলাত, ৪১/৩
قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلأذْقَانِ سُجَّدًا
তুমি বল, ‘তোমরা এতে (কুরআনে) বিশ্বাস কর কিংবা বিশ্বাস না কর, নিশ্চয় এর পূর্বে যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের নিকট যখন এটা পাঠ করা হয় তখন তারা সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। আল-ইস্রা, ১৭/১০৭
>>> ঈমানদার জ্ঞানীদেরকে আল্লাহ মর্যাদায় সমুন্নত করবেন <<<
الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ৫৮/১১
>>> জ্ঞানীদের বৈশিষ্ট্য <<<
لَكِنِ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَالْمُقِيمِينَ الصَّلاةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالْمُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أُولَئِكَ سَنُؤْتِيهِمْ أَجْرًا عَظِيمًا
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে পরিপক্ক এবং মুমিনগণ ঈমান আনে যা আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে আর যা আপনার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে এবং তারা সালাত প্রতিষ্ঠাকারী ও যাকাত প্রদানকারী আর তারা আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নকারী, তাদেরকে অচিরেই আমি মহাপুরস্কার প্রদান করব। আন-নিসা, ৪/১৬২
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। ফাত্বির, ৩৫/ ২৮
>>>> আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞানী <<<
وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ
আর সকল জ্ঞানীর উপর রয়েছে এক মহাজ্ঞানী। ইউসুফ, ১২/৭৬
وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ
আর প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে কোরআন প্রদান করা হয়েছে। আন্-নাম্ল, ২৭/৬
>>> আল্লাহই ওয়াহীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন <<<
الرَّحْمَنُ عَلَّمَ الْقُرْآنَ خَلَقَ الإنْسَانَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
পরম করুণাময়, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে। আর-রহমান, ৫৫/১-৪
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর আল্লাহকে ভয় কর আর আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী। আল-বাকারাহ, ২/২৮২
وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ
আর আল্লাহ তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) আর তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আন-নিসা, ৪/১১৩
>>> রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওয়াহী অবতীর্ণ হয় <<<
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الإنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الإنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিন্ড থেকে। পড়, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। আল-আলাক্ক, ৯৬/১-৫
উপরের আয়াতগুলো থেকে বুঝা যায় আল্লাহ মানুষকে ওয়াহীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল, আল্লাহ কি সরাসরি শিক্ষা দিয়েছেন নাকি কোন মাধ্যম দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন? তার উত্তর-
>>> কোন মানুষের সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেন না <<<
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ
কোন মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোন দূত পাঠানো ছাড়া; তারপর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তাই ওয়াহী প্রেরণ করেন, তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়। আশ্-শূরা, ৪২/৫১
>>> মুসা আলাইহিস সালাম এর সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন <<<
وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا
আর আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন সরাসরি। আন-নিসা, ৪/১৬৪
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ
আর যখন আমার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মূসা এসে উপস্থিত হল আর তার সাথে তার রব কথা বললেন। আল-আ‘রাফ, ৭/১৪৩
يَا مُوسَى إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى
হে মূসা! ‘নিশ্চয় আমি তোমার রব; সুতরাং তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেল, নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা তোমার প্রতি ওয়াহীরূপে পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুন’। ত্ব-হা, ২০/১১-১৩
>>> জিব্রীল আলাইহিস সালাম রাসূলকে সরাসরি ওয়াহীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন <<<
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
আর সে (রাসূল) মনগড়া কথা বলে না। এটা তো (কোরআন) কেবল ওয়াহী, যা প্রত্যাদেশ করা হয়। তাকে শিক্ষা দান করে প্রবল শক্তিধর (ফেরেশতা)। আন্-নাজ্ম, ৫৩/৩-৫
>>> রাসূল সাহাবীদেরকে সরাসরি ওয়াহীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন <<<
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ
অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) শিক্ষা দেয়। আলে‘ইমরান, ৩/১৬৪
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأمِّيِّينَ رَسُولا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ
তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে তাদের মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে পাঠ করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করে এবং তাদেরকে শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) আর যদিও ইতঃপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল। আল-জুমু‘য়াহ, ৬২/২
كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ
যেমন, আমি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে, তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) শিক্ষা দেয় আর তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় এমন কিছু, যা তোমরা জানতে না। আল-বাকারাহ, ২/১৫১
>>> ওয়াহীর জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছাতে রাসূল কার্পণ্য করেননি <<<
وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ
আর সে (রাসূল) অদৃশ্যের জ্ঞান (অর্থাৎ ওয়াহীর মাধ্যমে যে বাণী জানতে পান তা) পৌঁছে দিতে কৃপণতা করেন না। আত-তাকভীর, ৮১/২৪
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ
হে রাসূল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা তুমি পৌঁছে দাও। আল-মায়িদাহ, ৫/৬৭
>>> আল্লাহর ওয়াহীর জ্ঞান আসার পরও মানুষ মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে <<<
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإسْلامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন (জীবন-বিধান) হল ইসলাম আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই তারা পরস্পর বিদ্বেষবশত মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। আলে‘ইমরান, ৩/১৯
وَآتَيْنَاهُمْ بَيِّنَاتٍ مِنَ الأمْرِ فَمَا اخْتَلَفُوا إِلا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
আর আমি তাদেরকে দীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছি, কিন্তু তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরও তারা শুধু নিজেদের মধ্যে বাড়াবাড়ির কারণে তারা মতবিরোধ করছে, তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার রব কিয়ামতের দিবসে সেসব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন। আল-জাসিয়া, ৪৫/১৭
وَمَا تَفَرَّقُوا إِلا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَلَوْلا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ
আর তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা কেবল নিজেদের মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে মতভেদ করছে; একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ সম্পর্কে তোমার রবের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যেত আর তাদের পরে যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছে। আশ-শুরা, ৪২/১৪
>>> ওয়াহীর জ্ঞান ছাড়া অনেক মানুষ তর্ক করে <<<<
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلا هُدًى وَلا كِتَابٍ مُنِيرٍ ثَانِيَ عِطْفِهِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَنُذِيقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابَ الْحَرِيقِ
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে কোন জ্ঞান ছাড়া, কোন পথ নির্দেশনা ছাড়া আর কোন দীপ্তিমান কিতাব ছাড়া। সে তর্ক করে ঘাড় বাঁকিয়ে আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত করার জন্যে, তার জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিবসে আমি তাকে দহণ যন্ত্রণা আস্বাদন করাবো। আল-হাজ্জ, ২২/৮-৯
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلا هُدًى وَلا كِتَابٍ مُنِيرٍ وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে কোন জ্ঞান ছাড়া, কোন পথ নির্দেশনা ছাড়া, আর কোন দীপ্তিমান কিতাব ছাড়া। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব; শয়তান যদি তাদেরকে কঠোর শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি? লুকমান, ৩১/২০-২১
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَنْ تَوَلاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে কোন জ্ঞান ছাড়া, আর তারা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে। তার সম্পর্কে নির্ধারণ হয়েছে, যে তার সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাকে অবশ্যই বিভ্রান্ত করবে আর তাকে প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে। আল-হাজ্জ, ২২/৩-৪
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
সুতরাং তার চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যে কোন জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে পথভ্রষ্ট/বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে? নিশ্চয় আল্লাহ যালেম লোকদেরকে হিদায়াত করেন না। আল-আন‘আম, ৬/১৪৪
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لا يَعْلَمُونَ
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেও পারবে না। আল-আ’রাফ, ৭/১৮২
>>> বেহুদা কথা দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে <<<
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ
আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব। লুকমান, ৩১/৬
>>> অল্প বিদ্যার কারণে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করে <<<
ذَلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা, নিশ্চয় তোমার রব খুব ভাল করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে গুমরাহ হয়ে গেছে আর তিনি ভাল করেই জানেন কে সঠিক পথে আছে। আন-নাজম, ৫৩/৩০
>>> আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার পরও অনেকে জ্ঞানের অহংকার করে <<<
فَإِذَا مَسَّ الإنْسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَاهُ نِعْمَةً مِنَّا قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ بَلْ هِيَ فِتْنَةٌ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لا يَعْلَمُونَ
অতঃপর মানুষকে বিপদাপদ স্পর্শ করলে সে আমাকে ডাকতে থাকে এরপর যখন তিনি তাকে নিজের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে বলে, ‘জ্ঞানের কারণেই তা আমাকে দেয়া হয়েছে’, বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। আয-যুমার, ৩৯/৪৯
>>> জ্ঞান না থাকার কারণে মানুষ ধারণা-অনুমানের অনুসরণ করে <<<
وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ
আর তাদের মধ্যে আছে নিরক্ষর, তারা মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞান রাখে না এবং তারা শুধুই ধারণা করে থাকে। আল-বাকারাহ, ২/৭৮
وَمَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
আর যে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই, তারা কেবলমাত্র ধারণা অনুমানের অনুসরণ করে আর সত্যের মোকাবেলায় ধারণা অনুমান কোন কাজে আসবে না। আন্-নাজ্ম, ৫৩/২৮
وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولا
যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সে বিষয়ের পিছনে ছুটো না, নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটি সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল-ইসরা, ১৭/৩৬
>>>জ্ঞান না থাকার কারণে মানুষ তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে <<<
وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ
এবং নিশ্চয়ই অনেকে জ্ঞান ছাড়া তাদের প্রবৃত্তি (খেয়াল-খুশি) দ্বারা অন্যকে পথভ্রষ্ট করে, নিশ্চয় তোমার রব সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে ভালভাবেই অবগত আছেন। আল-আন‘আম, ৬/১১৯
>>> প্রবৃত্তির (খেয়াল খুশির) অনুসরণ করা যাবে না <<<
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا وَاقٍ
আর এভাবেই আমি একে (কুরআনকে) আরবী ভাষায় বিধানরূপে অবতীর্ণ করেছি আর তোমার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পরও যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির (খেয়াল খুশির) অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমার কোন অভিভাবক ও রক্ষাকারী থাকবে না। রা’দ, ১৩/৩৭
قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا نَصِيرٍ
তুমি বল, নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াত হল সঠিক হিদায়াত আর তোমার কাছে যে জ্ঞান এসে পৌঁছেছে তারপর যদি তুমি তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাসমূহের (প্রবৃত্তির) অনুসরণ কর তাহলে আল্লাহর মোকাবিলায় তোমার কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না। আল-বাকারাহ, ২/১২০
وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ
আর তোমার নিকট জ্ঞান আসার পরও যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির (খেয়াল খুশির) অনুসরণ কর, তাহলে নিশ্চয় তুমি তখন যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আল-বাক্বারাহ, ২/১৪৫
>>>> খেয়াল খুশী অনুসরণ করা যাবে না >>>
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلا تَذَكَّرُونَ
তবে কি তুমি ভেবে দেখেছ, যে তার নিজ প্রবৃত্তিকে (খেয়াল-খুশীকে) মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছে? আর আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, এবং তার কানে ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের উপর আবরণ রেখেছেন, তাই আল্লাহ ছাড়া কে তাকে হিদায়াত করবে? তবুও কি তোমরা চিন্তাভাবনা করবে না? আল-জাসিয়া, ৪৫/২৩
>>> জেনে বুঝে আল্লাহর ক্বালাম বিকৃত করে <<<
أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
তবে কি তোমরা আশা কর যে তোমাদের (দাওয়াতের) কারণে তারা ঈমান আনবে? আর তাদের মধ্যে একটি দল অবশ্যই আছে যারা আল্লাহর ক্বালাম শুনে অতঃপর তারা তা বুঝে নেয়ার পরও বিকৃত করে আর তারা তা অবগত আছে। আল-বাকারাহ, ২/৭৫
>>> আল্লাহর ক্বালাম গোপন করে <<<
قُلْ أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
তুমি বল, ‘তোমরা অধিক জ্ঞানী নাকি আল্লাহ’? আর তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে যে সাক্ষ্য রয়েছে তা গোপন করে? আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন। আল-বাকারাহ, ২/১৪০
>>> আল্লাহর আয়াত নিয়ে পরিহাস করে <<<
وَإِذَا عَلِمَ مِنْ آيَاتِنَا شَيْئًا اتَّخَذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ
যখন আমার কোন আয়াত সে অবগত হয় তখন সে তা নিয়ে পরিহাস করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আল-জাসিয়াহ ৪৫/৯
>>>> যারা বিনা ইলমে ফতোয়াবাজী করে তাদের থেকে সাবধানঃ <<<
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে দ্বীনি ইলমকে টেনে বের করে নিবেন না। কিন্তু ইলমকে উঠিয়ে নিবেন আলেমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত যখন কোন আলেম জীবিত থাকবে না, মানুষেরা তখন মূর্খ লোকদেরকে নিজেদের নেতা বানিয়ে নেবে। তাদেরকে দ্বীনের কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বিনা ইলমে ফতোয়াবাজীতে লিপ্ত হবে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে এবং লোকদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহুল বুখারী : ১০০, ৭৩০৭, সহিহ মুসলিম: ৬৬৮৯, ৬৬৯২
>>> আল্লাহর ওয়াহীর জ্ঞানই মানুষকে সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে <<<
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا
হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে দলিল প্রমাণ এসেছে আর আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট নূর (তথা কুরআন) অবতীর্ণ করেছি। অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন করে, ফলে শীঘ্রই তিনি তাদেরকে তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাঁর সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করবেন। আন-নিসা, ৪/১৭৪-১৭৫
>>> এই বিষয়ে দু‘আ <<<
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا রাব্বি যিদ্ নি- ‘ইল্ মা-
হে আমার রব! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও। ত্ব-হা, ২০/১১৪
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً
আল্লা-হুম্মা ইন্নী- আস্আলুকা ‘ইল্মান্ না-ফি‘আ- ওয়া রিয্কান্ ত্বোইয়িবা- ওয়া আমালান্ মুতাক্বাব্বালা
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, পবিত্র আহার, এবং কবুল আমলের প্রার্থনা করছি। (ইবনে মাজাহ: ৯২৫)
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
রাব্বি হাব্লি- হুক্মাও ওয়াল্ হিক্কনি- বিস্ সো-লিহি---ন
হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিত করুন। আশ্-শু‘আরা, ২৬/৮৩
'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]




লেখক: 
